‘যতি চিহ্নহীন’ রেজাউদ্দিন স্টালিন

ছবি: সংগৃহীত।

বসন্তের বিদায় আর বৈশাখের নতুনের আবাহনে প্রকৃতি যখন স্নাত, ঠিক তখনই রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে নেমে এসেছিল কবিতার এক জাদুকরী সন্ধ্যা। ৫ বৈশাখ (১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার) ‘তারুণ্যের কবি’ খ্যাত রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতাকে উপজীব্য করে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি সন্ধ্যা। ‘ধূমকেতু’ আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘রেজাউদ্দিন স্টালিন– যতি চিহ্নহীন’।

হলভর্তি দর্শক আর মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত চারপাশের পরিবেশে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। শিল্পী আকতারের সাবলীল উপস্থাপনায় মঞ্চে আসেন দেশের প্রথিতযশা আবৃত্তি শিল্পীরা। তাদের সুকণ্ঠের জাদুতে মূর্ত হয়ে ওঠে স্টালিনের কবিতার অন্তর্নিহিত দর্শন, প্রেম, দ্রোহ ও মানবতাবোধ। কবিতা পাঠের এই মুগ্ধকর পরিবেশনায় অংশ নেন সীমা ইসলাম, টিটো মুন্সী, এনামুল হক জুয়েল, ইকবাল আহমেদ, ফারহানা তৃণা, মাহিনুর মুমু, মাহবুবুর রহমান টুনু, ফারজানা এ্যালি, মাহী ফারহানা এবং নাজিয়া আফরিন। একেকটি কবিতার চরণে চরণে যেন উন্মোচিত হচ্ছিল কবির যতিহীন চিন্তার বিশালতা।

 

আবৃত্তির সুরমূর্ছনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানটিতে ছিল প্রাণবন্ত এক মুক্ত আলোচনা পর্ব। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক– মতিন বৈরাগী, হাসান হাফিজ, মোহন রায়হান, আমিনুল ইসলাম, সাখাওয়াত টিপু, সৈকত হাবিব এবং আসাদ কাজল।

আলোচকদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিসত্তার বহুমাত্রিক মূল্যায়ন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে, ‘স্টালিনের রয়েছে এক নিজস্ব আকাশ। তাঁর অসাধারণ কবিপ্রতিভা আজ আর কেবল দেশের গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই, পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়াচ্ছে দ্যুতি।’ নিজস্ব স্বর, স্বকীয় স্বভাব আর প্রথাবিরোধী লেখনীর জন্যই তিনি সমকালীন সাহিত্যে এক অপরিহার্য ও উজ্জ্বল নাম– এমনটাই মত দেন বোদ্ধারা।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধান অতিথির বক্তব্য। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। কবির প্রতি গভীর বন্ধুত্বের উষ্ণতা ছড়িয়ে তিনি বলেন, ‘রেজাউদ্দিন স্টালিন একজন কবি ও উপস্থাপক হিসেবে যেমন সফল, তেমনি তিনি আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু। তিনি এমন এক কবি– যার নিজস্ব এক আকাশ আছে, আছে লক্ষ নক্ষত্রের ছায়া। মানুষ আর স্বদেশই তাঁর আরাধ্য। তিনি সেই গুটিকয়েক কবিদের সাথে উচ্চারিত হন, যারা মহত্তমদের সারিতে অবস্থান করেন।’

স্টালিনের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃতির কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘গ্লাডিয়াস ভেগা হারারে, হারুকি মুরাকামি, আশরাফ ইয়াজিদ আল ঢালি, যোসেফ সুরুজ, জেমস তিয়ান, নিকোলাই আলেকজান্ডার কিংবা ইভান রাকিটিভিচ-এর মতো বিশ্ববরেণ্য লেখক ও কবিরা আজ তাঁর বন্ধু, সহমর্মী। কবি হোক মানুষের লোক। রেজাউদ্দিন স্টালিন আমার বন্ধু– এ আমার অহংকার, আমার গর্ব। আমি তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’

‘ধূমকেতু’ আয়োজিত এই আবৃত্তি সন্ধ্যাটি নিছক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল কবিতার নিজস্ব আকাশে এক আনন্দময় অবগাহন। আয়োজকদের প্রত্যাশা—এমন নান্দনিক উদ্যোগ সাহিত্য ও আবৃত্তি অনুরাগীদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করবে এবং শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রাখবে।

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লাল পতাকায় পরিপূর্ণ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান, কী বার্তা দিচ্ছে?

৫ আগষ্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যান চালকের মৃত্যু

জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খামেনির শেষকৃত্যে বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকারের শ্রদ্ধা

অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি

আমরা ভালো মানুষ বলেই খামেনির দাফনের জন্য ৭ দিন ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প

আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভা আজ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে মৃত্যু ৩,৭০০ ছাড়াল

১০

নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

১১

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

১২