বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, সৌদি তেল রপ্তানিতে নতুন শঙ্কা

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ অগ্রগতির পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এর একদিন আগে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখলের দাবি করে তারা।

হুথিদের এই দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব

বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। সংকীর্ণ এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য পরিচালিত হয়।

বিশ্বের মোট বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও ইউরোপের মধ্যে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বা যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য ও জ্বালানি লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

সৌদি তেল রপ্তানিতে কেন ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরপথে তেল রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে।

পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে তেল ট্যাংকারে করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর পাইপলাইনটির সক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে সৌদি আরব। যুদ্ধের আগে এর সক্ষমতা ছিল প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল।

ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে তেল পরিবহনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই নৌপথও যদি দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

পুরো লোহিত সাগর কি বন্ধ করতে পারবে হুথিরা?

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো লোহিত সাগর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা কঠিন। তবে সমুদ্রপথ পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজনও তাদের নাও হতে পারে।

বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ—এমন ধারণা তৈরি করতে পারলেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে। হামলার আশঙ্কা বাড়লে জাহাজ কোম্পানি ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো ওই নৌপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট বেছে নিতে পারে।

এর ফলে সামরিকভাবে সমুদ্রপথ পুরোপুরি বন্ধ না করেও জাহাজ চলাচল কমিয়ে দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে বাড়তে পারে জাহাজের পরিবহন সময়, জ্বালানি ব্যয় ও বিমা খরচ। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও জ্বালানির দামেও পড়তে পারে।

হুথিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সৌদি হামলা

হুথিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সৌদি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোখাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এসব হামলার লক্ষ্য ছিল।

তবে এসব হামলা এখন পর্যন্ত হুথিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

বাব আল-মান্দেবের আশপাশে সংঘাত আরও বাড়লে শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরব নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও।

সূত্র: আল-জাজিরা


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, সৌদি তেল রপ্তানিতে নতুন শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক

দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশি ইলিশ চায় ভারতীয় আমদানিকারকরা

দেশ গঠনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত

তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ভরিতে স্বর্নের দাম বাড়লো ১০৫০ টাকা

নিজ আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, সংঘাত বাড়ার শঙ্কা

যবিপ্রবিতে সীরাত প্রতিযোগিতা ও ওরিয়েন্টেশন সেমিনার অনুষ্ঠিত

১০

ফরিদপুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬

১১

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ

১২