বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হেলথ-কেয়ার ব্র্যান্ডের। রোগের উপসর্গ নয়, রোগের মূল কারণ নির্মূল করলেই সম্ভব টেকসই নিরাময়- এমন বিশ্বাস থেকেই দেশের একদল তরুণ শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য উদ্যোগ ‘নিরাময়’। ঘরোয়া ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে সুস্থ জীবন গড়ে তোলা এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই হেলথ-কেয়ার ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
রাজধানীর আফতাবনগরে সম্প্রতি উন্মোচন করা হয় ‘নিরাময়’-এর কার্যালয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিরাময়ের কো-ফাউন্ডার মহিবুল্লাহ সোহান, মো. মাহমুদুল আমিন, কামরুল হাসান নিয়াজসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা জানান, দেশের প্রতিটি রান্নাঘরকে ‘কিচেন ফার্মেসি’তে রূপান্তর করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই দামি খাদ্য-এমন প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়ে তাঁরা দেখাতে চান, ঘরোয়া উপাদানেই রয়েছে পুষ্টির আসল শক্তি। একই সঙ্গে ডায়েট শুধু পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্য প্রয়োজন- এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে ‘নিরাময়’।
উদ্যোক্তাদের দাবি, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল অনুসরণ করলে যেকোনো পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। সে লক্ষ্যে ‘নিরাময়’-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ বা ৮৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সাধারণ মানুষকে নিজ পকেট থেকেই ব্যয় করতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, এই অর্থ দিয়েই দেশে প্রতিবছর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মতো প্রায় ৪০টি হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব।
এই বিপুল চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে বছরে অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের এক ‘মেগা মিশন’ নিয়ে মাঠে নেমেছে ‘নিরাময়’। কো-ফাউন্ডার কামরুল হাসান নিয়াজ বলেন, “আমরা পুষ্টির অর্থনীতি বদলে দিতে এসেছি। স্বাস্থ্যকর জীবন মানেই ব্যয়বহুল জীবন- এই ভুল ধারণা ভাঙাই আমাদের লক্ষ্য।”
এই উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের নারী সমাজকে। পরিবারে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবর্তনে নারীর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ‘নিরাময়’-এর। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সুস্থতার এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ‘ফিটনেস ফাইটার’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সুস্থ-সবল জাতি গঠনের মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনীতির এই ‘নীরব রক্তক্ষরণ’ রোধ করা যাবে- এমন প্রত্যাশা উদ্যোক্তাদের।