রূপক অর্থে অনেকে পথের সঙ্গে জীবনের মিল খোঁজার চেষ্টা করেন। করবেনই-বা না কেন! জীবন যেমন অনিশ্চিত, তেমনি পথও এক অনিশ্চিত জায়গা। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত কিছু। জীবনের প্রয়োজন, আকাঙক্ষা একজনকে কখন, কোথায়, কীভাবে নিয়ে যায় কে বলতে পারে? আবার এই পথেই এমন সব ঘটনা ঘটে যায়, যা একজনের জীবন বদলে দিতে পারে। এমনই কিছু ঘটনা সাজিয়ে গল্প বলতে আসছেন জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। গল্পের নাম ‘পথের প্যাঁচাল’।
চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশন হিসেবে এটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৬ মে দিবাগত রাত ১২টায়, অর্থাৎ ৭ মে।
পথের প্যাঁচাল-এ অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, বহ্নি হাসান, মনির হাসান খান শিমুল, অশোক বেপারী, প্রনব ঘোষ, সানজিদা ইয়াসমিন স্নিগ্ধা। গতকাল চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ পেয়েছে এই ফ্ল্যাশ ফিকশনের পোস্টার।
পথের প্যাঁচাল নামটি শুনলেই মনে এসে যায় কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’র কথা। গল্পে বা ভাবনায় কোনো অনুপ্রেরণা আছে কি? নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন, শব্দ দুটি শুধু শুনতেই কাছাকাছি। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের গল্প।
তাহলে সেই প্রেক্ষাপট কী? গিয়াস উদ্দিন সেলিম জানান, বায়েজিদ একজন অটো রিকশাচালক, যার প্রতিদিনের জীবন রিকশার প্যাডেলে ঘুরে চলে। তার জীবনে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে যান উমা। তিনি একজন নবীন উপন্যাসিক, নিজের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের চেষ্টা করছে সে। এমন দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের চরিত্রের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে গল্পটি। ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের এই দুই মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক ও কথোপকথনই পথের প্যাঁচাল’র মূল উপজীব্য।
গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘‘জীবন মানেই এক দীর্ঘ পথ এবং এই পথে তৈরি হয় অসংখ্য গল্প। এই ফিকশনে কিছু বিষয় অন্য দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি। এখানে দুই শ্রেণির দুই মানুষের কথা আছে। শ্রেণি আলোচনা ও অনুভূতির বয়ান রয়েছে। অনেকে একে ‘অসম’ কিছু একটা ভাবতে পারেন, তবে আমি একে বলব সহজ-সরল সম্পর্ককে মানবিকভাবে দেখার চেষ্টা। সামাজিক ট্যাবুর বাইরে গিয়ে সম্পর্কের এক মানবিক রূপ এখানে ফুটে উঠবে।’’
ইয়াশ রোহান বলেন, ‘এটা একটা ট্যালেন্টের গল্প। ট্যালেন্ট এমন একটা জিনিস, এটা কখন কোথায় কীভাবে থাকবে তা কেউ জানে না। এই গল্পটাও তেমন, যেখানে কেউ আসলে ট্যালেন্টটা প্রত্যাশা করে না, সেখানেই এটা পাওয়া যায়।’
পথের প্যাঁচাল-এ বহ্নি হাসান অভিনয় করেছেন উমা চরিত্রে। চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘উমা চরিত্রটি দৃঢ় ব্যক্তিত্বের এক স্বাবলম্বী নারী। স্বাভাবিকভাবেই চরিত্রটির উল্টোদিকে অনেক মানুষকে দেখা যায়। একপর্যায়ে বায়েজিদও আসে। অন্য সব চরিত্রগুলোর সঙ্গে স্ট্রাগল করলেও বায়েজিদ চরিত্রটি উমাকে অন্য একটা ভাবনায় নিয়ে যায়। একটা হিউম্যান কানেকশন তৈরি হয় বায়েজিদ ও উমার মধ্যে। এটা ঠিক প্রেম না, আবার কোনাকিছুই তো প্রেমের বাইরে না।’
শিপ্রা দেবনাথের গল্পে পথের প্যাঁচাল’র চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা-আই এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এটি।