রান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)। এদিকে হামলার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। অন্যদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে, নিজেদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় তাদের অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস জানিয়েছে।
পিএমএফ বলেছে, এটি প্রাথমিক হিসাব। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শেষ হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা— এই সাতটি প্রদেশে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে
মূলত শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ে গঠিত এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত এই জোট আরও জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ভবন, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামেরও বিভিন্ন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের রাতভর চালানো এই হামলার পর বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠক শেষে ঘটনাবলি এবং নেয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চালানো পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে বলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো ধারাবাহিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। সৌদির অভিযোগ, তেলের দাম বাড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোই ছিল ইরানের কৌশল।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংঘাত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকার সময় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো ও জর্ডান যৌথভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু ‘ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা’ সে সময় ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর পথ’ বেছে নেয়।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তারা জবাব দেবে।
এদিকে জর্ডানে হামলার বিষয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সেখানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও (সেন্টকম) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জিসিসির অন্য সদস্য দেশ ও জর্ডান থেকেও এ বিষয়ে আরও প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।