দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হঠাৎ করে সামরিক শাসন জারি করেছিলেন কেন?

সংগৃহিত ছবি

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। তবে এই ঘোষণা জারি করার পরপরই তাকে এই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) হঠাৎ করে এক টিভি ভাষণে সামরিক আইন জারি হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরদিন বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এই আইন প্রত্যাহারও করে নেন তিনি।

দেশটির পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এই রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়ায় আইনগতভাবে এই আইন প্রত্যাহারে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, জাতীয় পরিষদের বেশির ভাগ সদস্য ভোটে সামরিক আইনের ইতি চাইলে সরকারকে সেই আইন তুলে নিতে হবে।

সামরিক আইন জারির ঘোষণার পরে হাজার হাজার মানুষ এর প্রতিবাদে পার্লামেন্টের সামনে সমবেত হন। অন্যদিকে, বিরোধী আইন প্রণেতারা দ্রুত পার্লামেন্টে যান জরুরি ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য চাপ দেওয়ার জন্য।

ভোটে পরাজিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সামরিক আইন জারির আদেশ প্রত্যাহার করেন।

এশিয়ার গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া বিগত ৫০ বছরে এই প্রথম মার্শাল ল বা সামরিক আইন জারি করলে তাতে অবাক হন দেশটির মানুষজন।

ইওল মঙ্গলবার রাতের ঘোষণায় ‘রাষ্ট্র বিরোধী শক্তি’এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকির কথা উল্লেখ করে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে,কোনো বিদেশী হুমকির কারণে নয়, বরং তার নিজের রাজনৈতিক সংকটের কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ইউন সুক-ইওল ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। পিপল পাওয়ার পার্টি তার রাজনৈতিক দল। দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থী লি জ-মায়ুংকে খুব কম ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন ইওল।

এরপর নানা বিতর্ক এবং কেলেঙ্কারির কারণে প্রেসিডেন্ট ইওলের জনসমর্থন অনেক কমে এসেছে। তার স্ত্রীও কেলেঙ্কারিতে জড়িত। স্ত্রীর কেলেঙ্কারির জন্য ইওল গত মাসে ক্ষমাও চেয়েছেন।

এ সপ্তাহে ইওল সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীরা।

ইওল সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী পার্লামেন্টের সব কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম। ইয়োনহাপ জানায়, জাতীয় পরিষদের সদস্যদেরকে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

ওদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের আইনপ্রণেতাদেরকে দেশের আইনসভায় জড়ো হওয়ার ডাক দিয়েছে। দলের নেতা লি জে-মায়ুং জনতাকেও জাতীয় পরিষদে জড়ো হওয়ার ডাক দিয়েছেন।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭-১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাবির ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ

মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে রৌমারীতে সংবাদ সম্মেলন

ভোলায় ১০০কোটি ডলারের চিনা বিনিয়োগে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স: দ্রুত বিচার সম্পন্নের আহ্বান

জরুরি বৈঠকে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেলেন হানিয়া আমির

রায়গঞ্জে ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালকদের নিয়ে শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত

নুরকে প্রধান উপদেষ্টার ফোন, তদন্তের আশ্বাস

বিনামূল্যে এআই ও চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ শুরু করছে গুগল

ভিপি নুরের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম

১০

টুকরো কাপড় থেকে দামি শাড়ি তৈরি করেন তিনি

১১

গা*জা হা*মলায় মুসলিম বিশ্বকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

১২