ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই এমন ঘোষণা দেবেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে যায় না। এ জন্য মার্কিন কংগ্রেসের আইন অথবা সিনেট অনুমোদিত চুক্তি প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হতো। সংঘাতের পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, কোনো টুইট, যুদ্ধজাহাজ বা আদেশের মাধ্যমে হরমুজ দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, প্রণালিটি ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক সার্বভৌমত্ব নেই। প্রণালিটির দুই পাশে ইরান ও ওমানের উপকূল রয়েছে। সবচেয়ে সরু অংশে এর প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ দখল করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবে ভূখণ্ড দখলের চেয়ে ইরানের ওপর চাপ তৈরির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আইনগত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই একতরফা ঘোষণায় হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা কার্যত অসম্ভব।