বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপ কমাতে প্রতিটি বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্মাণ সরঞ্জাম বিষয়ক বিআইআইডি এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, সঠিক নীতিমালা সহায়তা (পলিসি) পেলে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সরকার দ্রুত সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সোলারে যাওয়ার জন্য রেডি, শুধু নীতিমালা দরকার। এই নীতিমালা পেলে আমরা বাংলাদেশের সোলারে একটা বিপ্লব ঘটাতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু সমস্যা হলো যে আমাদের নীতিমালা। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেতৃত্বে একটা কমিটি করে দিয়েছেন। এখন কিভাবে নীতিগত সহায়তা দিলে, আমরা খুব দ্রুত ইমপ্লিমেন্টেশনে যেতে পারি সেজন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
চলতি মাসের মধ্যেই একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জুন মাসে ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর, তা সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে সরকার যদি কোনো সেক্টরকে ঠিকমতো নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে তা দেশে বিপ্লব আনতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, সৌর খাতের রেগুলেশন আরও শিথিল করা, ইনভার্টার, ফ্রেম ও প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজে আমদানির সুযোগ সৃষ্টি ও কর সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সরকার এখন ব্যাটারি স্টোরেজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ব্যবহার করা যায়,’ যোগ করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।
রুফটপ সোলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিল সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ভবন মালিকরা আর্থিক সুবিধাও পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা হাউসকে যদি আমরা এই সোলারের আওতায় নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমি মনে করি, ঢাকার যে লোড আছে, তা অনেকটাই কমে যাবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক এক্সপোনেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ ও ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি)’র চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান রিপন প্রমুখ।
তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছেন।