হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য তা চিরতরে বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী কমান্ড জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি আধিপত্যের যুগ এখন নিশ্চিতভাবেই শেষ। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহিঃশক্তিগুলো আর ইরানের সমুদ্রসীমায় প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট (ইসরায়েল) শাসনের জন্য। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো অস্থিতিশীলতামূলক হস্তক্ষেপ রুখে দেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘোষিত সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো–পারস্য উপসাগরে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উপকূলবর্তী দেশগুলো নিজেরাই নিশ্চিত করবে।
এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত কুইক রিঅ্যাকশন সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিরবচ্ছিন্ন রাখা।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার বা পুনরায় সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত, কার্যকরী এবং শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি