সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, এটি মূলত শব্দের বিষয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটুকু পরিবর্তন করতে চাই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত শব্দগত পার্থক্য রয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে কতটুকু পরিবর্তন হবে এবং কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের উচিৎ কমিটির আলোচনায় অংশ নেয়া এবং তাদের প্রস্তাব সংসদের ভেতরে তুলে ধরা। অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বহু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ওই সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় গেছে এবং পরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গণভোট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।