জাপানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৭, বিদ্যুৎ-পানির সংকট

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্প-সংশ্লিষ্ট আরও ছয়জনের হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ (কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট) হওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তাধীন এসব ঘটনা যুক্ত করলে মোট মৃতের সংখ্যা ৩০ হতে পারে বলে জানিয়েছে কুমামোতো প্রিফেকচার প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দুইদিন আগে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর কুমামোতো অঞ্চলের বন্দরনগরী ইয়াতসুশিরোতে প্রায় ৫৮ হাজার পরিবারের ঘরে এখনো পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান পানির লাইন মেরামতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইয়াতসুশিরো সিটি হলের কর্মকর্তা আকিও মাতসুশিতা বলেন, গ্রীষ্মের তীব্র গরমের মধ্যে পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সিটি হলের টয়লেট অচল হয়ে পড়ায় সুয়ারেজ ম্যানহোলের ওপর জরুরি টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই 'নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর কাগজ কারখানা এবং 'আয়ন' শপিং মলে মারা গেছেন। কাগজ কারখানাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শপিং মলে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম কেনহ১৪ জানিয়েছে, নিহতদের একজন সদ্য বিবাহিত ভিয়েতনামী কারখানা শ্রমিক। তার স্ত্রী ভু থি থুই জানান, ভূমিকম্পের আগের রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে হওয়াই ছিল তাদের শেষ কথা। 

এদিকে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ) কুমামোতো ও আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৩০০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন করছে।

এসডিএফের ট্রাকগুলো ইয়াতসুশিরোর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও স্কুলে পানির ট্যাংক সরবরাহ করছে। বাসিন্দাদের মাথাপিছু পাঁচ লিটার করে পানি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসাহিরো মিয়ামোতো জানান, ভূমিকম্পের সময় বাড়ি ফিরে দেখেন প্রতিবেশীর বাড়ি ধসে পড়েছে, যদিও নিজের বাড়ি অক্ষত রয়েছে। তবে পানি না থাকায় সেনাবাহিনীর সরবরাহ করা পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। খোলা থাকা দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষের ভিড় এবং পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ না ঘটলেই ভালো হতো। কিন্তু এটি জাপান, তাই সম্ভবত এর সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে চলতে হবে।’

ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে দেশটির শিল্প খাতেও। কুমামোতো ও কিউশু অঞ্চল গাড়ি ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। টয়োটা, হোন্ডা, নিসান, আইসিন ও সনির কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসিও  কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার জন্য অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা বলেন, অর্থনীতির ওপর ভূমিকম্পের প্রভাব এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধার ও মেরামত করা। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বিশ্বের বড় ভূমিকম্পের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়। ২০১৬ সালে কুমামোতোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এবার ইয়াতসুশিরোতে অনুভূত কম্পন এক দশক আগের চেয়েও ভয়াবহ ছিল।

মাসাহিরো মিয়ামোতো বলেন, ‘পৃথিবীকে এমনভাবে কাঁপতে আমি আগে কখনও দেখিনি। মনে হচ্ছিল আমার শরীর ওজনহীন হয়ে বাতাসে ভেসে যাচ্ছে।’

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৭, বিদ্যুৎ-পানির সংকট

সারে ভর্তুকির অর্ধেক সুবিধা পান বড় ভূমি মালিকেরা

মতামত দিতে সময় বাড়ানোর দাবি টিআইবির

২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারত পালানোর চেষ্টা, দুই কর্মকর্তা আটক

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের কথা বলে হেনস্থা, কী ঘটে অভিনেত্রীর সঙ্গে

ভিসি নিয়োগে প্রাধান্য ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের

শতকের ঘরে সবজি, কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা

দুদকের নতুন সচিব হলেন সাইদুর রহমান খান

শিক্ষার্থীদের আসল শত্রু হলো আরএসএস: রাহুল গান্ধী

আজ ঢাকায় আসছেন ট্রা‌ম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

১০

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

১১

ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমবে গরম

১২