‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার- সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহিলা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা নারীদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকেও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) নামে একটি প্রচারাভিযান চলছে। এতে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন টেকসই হয় তখনই, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর শিক্ষায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল, যা নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ ছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ) দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকেরা মজুরি বৈষম্য ও অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।
পরে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন প্রতি বছর ৮ মার্চ নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর ১৯১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।
১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।