নাতনির মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানা-নানীসহ ৪ জনের

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার আতাইকুলা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সচালক এবং একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার মাধপুর সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের সলিম প্রামানিক (৬৫), তার স্ত্রী বুলু খাতুন, পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০) এবং সাত বছর বয়সী নাফিজ। আহত হয়েছেন সলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজমিন খাতুন ও নাতি রিয়াদ সরদার।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কিডনি রোগে আক্রান্ত সলিম প্রামানিকের নাতনি কেয়া খাতুনের (১৯) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তার মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ গ্রামে ফিরছিলেন। পথে আতাইকুলার মাধপুর সড়াডাঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখসহ দুজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে সলিম প্রামানিক মারা যান।

পরে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কেয়া খাতুনের ছোট ভাই নাফিজ (৭), যিনি গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সন্ধ্যায় মারা যান। এতে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়ায়।

মাধপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ওসি মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আহত তিনজনকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত সলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন মারা যাওয়া কেয়া খাতুনের নানা-নানী।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

১

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

২

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

৩

ক্লাসেই প্রাণ গেল ২৭ শিশুর, পাকিস্তানে পরপর স্কুল ট্র্যাজেডির নেপথ্যে কী?

৪

চুয়াডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবার

৫

সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আর নেই

৬

ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা, পূজা শুরু শুক্রবার

৭

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি হুতিদের

৮

ময়ূর: প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর পাখি

৯

রাশিয়ায় চাকরির নামে মানবপাচার, ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু: এসআরবি

১০

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৭ জনের

১১

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

১২