নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার মানুষ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পুলিশের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, এদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি, গোর্খায় ৪৮টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধার এবং বন্যায় আটকে পড়াদের সহায়তায় পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বন্যার আবর্জনা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং ত্রাণ কার্যক্রম সহজ করার চেষ্টা চলছে।

বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়।

পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর তীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে সেই পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।

বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়।

কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো চেষ্টা করছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে রয়টার্স লিখেছে, নেপালের যেসব বিশেষায়িত ও কারিগরি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই, সেসব ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই, রয়টার্সকে বলেছেন তিনি।

কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে সহায়তার অনুমতি দিতে নেপাল সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা, মরদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে নেপালের বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন।

শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, যেসব বিশেষায়িত সেবা ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান নেই, সেসব বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছি।

রয়টার্স লিখেছে, দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থা চালু করতে নেপাল তার দুই বড় প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কাছে বেইলি সেতু চেয়েছে। বন্যায় দেশটির প্রায় দুই ডজন সেতু ধ্বংস হয়েছে।

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ 

চুয়াডাঙ্গা জেলা লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট কাজী হায়দারের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

দেশজুড়ে আগামী ৫ দিন টানা বৃষ্টির আভাস

নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

সোনার দামে বড় পরিবর্তন,যা জানালো বাজুস

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জেনারেটরে কারখানা, ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’

মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ

হিমালয়ে ভূমিধসে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ছাড়াল ৫০০

যুবলীগের পরশ ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

১০

হরমুজ প্রণালি খুলে গে‌লে এলএনজি সরবরাহে বাংলা‌দেশ‌কে অগ্রাধিকারের অনুরোধ

১১

দিনে ৬ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট: জেনারেটরহীন হাসপাতালগুলোতে দুর্ভোগ চরমে

১২