চলমান বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকার বাইরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় দিনে ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং চলছে। ফলে তীব্র গরমে নাকাল রোগী ও চিকিৎসকরা। তৃণমূলের এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায়, পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
জীবনের নিঃশ্বাস যেখানে বেঁচে থাকার শ্বাস খোঁজে, সেখানেই এখন নাভিশ্বাস। চলমান বিদ্যুৎ সংকটে আলোহীন অবস্থায় ধুঁকছে ঢাকার বাইরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ত্রাহী অবস্থা রোগীদের। সুই সিরিঞ্জের পাশে এখন হাতপাখা, আর বেডের পাশে মুঠোফোনের টর্চ।
ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ৩টা। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ নেই ঘণ্টাখানেক। ৪ দিন ধরে ভর্তি আওয়াল মোল্লা জানালেন, দিনের চেয়ে রাতের অবস্থা আরও নাজুক। তিনি জানান, রাতে বিদ্যুৎ থাকে না, যাদিও আসে ১০/২০ মিনিট থেকে আবার চলে যায়।
প্রচণ্ড গরমে জ্বরটা আরও বেড়েছে ছয় বছরের জান্নাতের। লোডশেডিংয়ের সময় শহরের হাসপাতালে হয়তো জেনারেটরে মুক্তি মেলে। কিন্তু, এখানে সেই ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যুৎ গেলে আর আসার খবর থাকে না।
এখানে বহির্বিভাগে লাইনে থাকা রোগীদের সাথে যারা আসেন তারাও যেনো রোগী হয়ে যান। মাসখানেক ধরে এমন অবস্থা চললেও খোঁজ নিচ্ছে না কেউ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাসায় বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতালেও একই অবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে অনেকে অজ্ঞান হয়ে যান।
কেবল সিঙ্গাইর নয়, রাজধানী ঢাকার আশপাশের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্র প্রায় একই। দিনে ৬ থেকে ৮ বার লোড শেডিংয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারে।
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমাদের হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আসলে নেই। চিকিৎসার জন্য অনেক জরুরি রোগী আসেন। সেই জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি।