ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
বিচ্ছিন্নভাবে দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্ত। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল ভোট নিয়ে কিছু অভিযোগ তুলেছে।
ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনার কাজ। এখন সবার অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের।
নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে- বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী।
তিনি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে।
তিনি বলেন, “মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস- এই নির্বাচন তারই প্রমাণ।”
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনগুলোর একটি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
এখন দেশের মানুষ অপেক্ষায়- কে গড়বে আগামী দিনের সরকার, আর গণভোটে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনগণ।