নাহিদের গতি ও তানজিদ ঝড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

পাকিস্তানের দেওয়া ১১৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা। দলের এই দাপুটে জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪২ বলে ৫টি ছক্কা ও ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৭ রানের এক বিধ্বংসী ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।

আজ বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে মাত্র ১৫.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।

স্বল্প রান তাড়ায় নেমে ঝড়ো শুরু বাংলাদেশের। একপাশে দ্রুত গতিতে রান তুলছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে অপরপ্রান্তে কিছুটা দেখেশুনে খেলার চেষ্টায় ছিলেন সাইফ হাসান। সেই চেষ্টায় বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। ১০ বলে ৪ রান করে দলীয় ২৭ রানে ফেরেন সাইফ।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে জুটি গড়েন তামিম। এই জুটি থেকে আসে ৮২ রান। এতেই অবশ্য বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা গড়ে যায়। শান্ত ৩৩ বলে ২৭ রান করে ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।

পরে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তামিম। ম্যাচের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ওয়ানডেতেও কিছুটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করেছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ৪২ বলে ৬৭ রানে। লিটন অপরাজিত ছিলেন ৬ বলে ৩ রান করে। মাত্র ১৫.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে নেয় বাংলাদেশ। 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না পাকিস্তানের। অভিষিক্ত দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান আর মাজ সাদাকাত মিলে কাটিয়ে দেন পাওয়ার-প্লে। এরপর নিজেদের গুছিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

পাওয়ার-প্লের শেষ বলে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদ রানা। ফেরান শাহিবজাদাকে। ৩৮ বলে ২৭ রান করে আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দেন তিনি।

সেই থেকে শুরু, এরপর আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। পুড়েছে নাহিদ রানার পেস আগুনে। ৪৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা। নাহিদের বলে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন শামিল হোসেন। আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাতকেও ফেরান নাহিদ।

৬৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান শিকার হন নাহিদেরই।  পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সালমান আগাকে যখন সাজঘরে ফেরান নাহিদ, পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে তখন ৬৯ রান।

নাহিদের ফাইফারের পর দৃশ্যপটে আসেন মিরাজ। প্রথমে ফেরান  আবদুল সামাদকে। রানের খাতা খোলার আগেই লিটনকে ক্যাচ দেন সামাদ। হুসেন তালাতকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। পাকিস্তান দলপতি শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও লেগবিফোর করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

৮১ রানে ৮ উইকেট হারানো পাকিস্তান শিবিরে পরের আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। দলীয় ৮২ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিম বিদায় নিলে, পাকিস্তানের শঙ্কা জাগে ১০০ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার। শেষ উইকেট জুটিতে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ মিলে দলগত সংগ্রহ শতরানের ঘর পার করেন। শেষ উইকেট জুটিতে ৩২ রান যোগ করেন দুজন মিলে। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হওয়া ফাহিম খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশের পক্ষে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ শিকার নাহিদের। ১০ ওভারে ২৯ রানে তিন উইকেট মিরাজের নামের পাশে। তাসকিন ও মুস্তাফিজ পান একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

পাকিস্তান : ৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (শাহিবজাদা ২৭, মাজ ১৮, শ্যামল ৪, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, হুসাইন ৪, আব্দুল সামাদ ০, শাহিন আফ্রিদি ৪, ওয়াশিম ০, ফাহিম ৩৭, আবরার ০*; তাসকিন ৭-০-২৯-১, মুস্তাফিজ ৪.৪-০-১৮-১, মিরাজ ১০-০-২৯-৩, নাহিদ ৭-০-২৪-৫, রিশাদ ২-০-১০-০)

বাংলাদেশ : ১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (সাইফ ৪, শান্ত ২৭, তামিম ৬৭*, লিটন ৩*; আফ্রিদি ৫-১-৩৫-১, ফাহিম ২-০-১৯-০, ওয়াসিম ৩.১-০-২৪-১, আবরার ৩-০-২৫-০, সালমান ২-০-১২-০)

ফলাফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেট জয়ী।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইম্পেরিয়াল হেলথকেয়ার লিমিটেডের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

জুনের মধ্যেই চালু হবে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নাহিদের গতি ও তানজিদ ঝড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

জ্বালানি সহায়তা চেয়ে ভারতকে সরকারের চিঠি

ডেঙ্গু–চিকুনগুনিয়া রোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঈদ উপলক্ষ্যে উল্লাপাড়ার ৩৩ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন

২৪ না থাকলে ২৬ এর অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু

পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ বাড়িয়েছে বিপিসি

সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

১১

প্রতিবেশীরা ইরানের শত্রু নয়: কাতার

১২