কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারাদেশে সতর্ক থাকতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে ‘নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বিষয়ে একটি ‘জরুরি বার্তা’ পাঠানো হয়েছে।

দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে পাঠানো ওই বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ‘সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন’ করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সেদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে।

এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক কোনও থ্রেট বা আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।’

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যায় না।

আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার চলছে। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশের ৭ রানের হারে সিরিজ জয় অজিদের

দেশের ৫টি বিভাগে ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিলো অস্ট্রেলিয়া

রাজধানীতে মাছের বাজার চড়া, স্বস্তি মিলছে সবজিতে

স্বামীর কথায় বিস্মিত সামান্থা

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থগিত

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত

বিজিবির অভিযানে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় ফুসকা জব্দ

১০

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

১১

পাবলিক পরীক্ষা আইনে ডিজিটাল নকলের সাজা যুক্ত করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

১২