বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় হামলা

ছবি সংগৃহিত।

চাঁদাবাজির মামলা নেওয়ায় জয়পুরহাটে ক্ষেতলাল থানায় হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দুইজন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ইফতারের আগ মুহূর্তে ক্ষেতলাল থানায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আশিক পার্থের নেতৃত্ব এই হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা থানা হামলা ও পুলিশকে আহত করার অন্যটি চাঁদাবাজির মামলা। 

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, থানায় হামলা ও পুলিশকে আহত করার মামলায় পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে বাবু (৪৭), মো. বিপ্লব হোসেন (২৪), মো. ফারুক হোসেন (৩২), উজ্জল (৩৪) ও সজিব (২৮)। 

আহতরা হলেন- পৌর এলাকার শাখারুঞ্জ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৩৫), একই গ্রামের আমিরুল ইসলাম (২৭), বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিক (৩৭) ও আব্দুল মমিন (৩৮)। আহত দুই পুলিশ সদস্য কাজী জাফর ও সুমন। সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা তিনজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আশিক পার্থের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন থানায় আক্রমণ করে। দায়িত্বরত ২ পুলিশ সদস্য বাধা দিলে তাদের মেরে আহত করে থানা অবরুদ্ধ করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে সেনা সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স, জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কালাই থানা পুলিশের শতাধিক সদস্য থানায় অবস্থান নেন।

ভুক্তভোগী আহত রফিক জানান, ক্ষেতলাল পৌর এলাকার শাখারুঞ্জ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন জমি রেজিস্ট্রির জন্য ক্ষেতলাল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। এ সময় স্থানীয় পৌর বিএনপির ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী মাসুদ চৌধুরী, গোলাম মওলা ও জুয়েল সেখানে উপস্থিত হয়ে তার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তা দিতে অপারগতা জানালে তারা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আশিক পার্থকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। তাকে বাধা দিতে গেলে তোফাজ্জল হোসেনসহ আমাদের চারজনকে মারপিট করে রক্তাক্ত করে। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

আমাদের মধ্য থেকে গুরুতর আহত তোফাজ্জলকে পুলিশ থানা থেকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। পরে আমাদের থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করার জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে না দেওয়ার জন্য পার্থের নেতৃত্বে থানায় হামলা করে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, দলের যে কেউ হোক যে অপরাধ করবে তার বিচার হবে।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে

যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে কারিগরি ত্রুটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই : এনপিসিবিএল

৮০ দিন পর চালু হলো চা শ্রমিকদের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল

অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ হলেও মেডিকেল কলেজ চালু থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে দিল্লির ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, বিকেলের মধ্যে ব্যবস্থা জানাবে মন্ত্রণালয়

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে বিপিএল

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে দিল্লির ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, বিকেলের মধ্যে ব্যবস্থা জানাবে মন্ত্রণালয়

১০

ভারতের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১১

আর্জেন্টিনা নিয়ে পারশার উচ্ছ্বাস

১২