ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাদানুবাদের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম।
যদিও জিডির বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তবে ঘটনার সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় কারা এসেছিলেন, পুলিশ তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনও অভিযোগ নয়। উল্লেখযোগ্য কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ সাধারণত জিডি করে রাখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
রুমিন ফারহানার অভিযোগ, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তাকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা থাকলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া সে ব্যবস্থা করেননি। এ বিষয়ে জানতে গিয়ে তার সঙ্গে ওসির বাদানুবাদ হয়।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেন। তবে ওসি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি আওয়ামী লীগের চোর বলো।’
তবে রুমিন ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে ওই দিন সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। তার ভাষ্য, কয়েকজনকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছিল আজেবাজে কথা বলার জন্য।
ইটভাটা থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, হাওরের সব ইটভাটা পানির নিচে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই সময়ে রুমিন ফারহানার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।