ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ২০ বছরে সর্বোচ্চ: যাত্রীকল্যাণ সমিতি

ছবি: সংগৃহীত।

এবারের ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার যাত্রায় গড়ে প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ৩৫০ টাকা আদায় হলে মোট বাড়তি আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া সিটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদ আরও প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে বাস-মিনিবাস খাতেই প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে পারে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, আন্তঃজেলা ও নগর পরিবহনের বড় অংশেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ অভিযোগ করেন। সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে বাস-মিনিবাসে ব্যাপক হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে। বুধবার থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরের সিটি বাসেও এই প্রবণতা শুরু হয়েছে। নৌপথেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেলেও সরকার তা অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে। পাশাপাশি সিটি সার্ভিসে আরও প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী চলাচল করবেন।

সমিতি দাবি করেছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন রুটে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ঢাকা–পাবনা রুটে ৫৫০-৬০০ টাকার ভাড়া ১২০০ টাকা, ঢাকা–রংপুরে ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা এবং ঢাকা–ময়মনসিংহ লোকাল বাসে ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, যাত্রীদের নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটছে। অনেক পরিবহন কোম্পানি কৌশলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

সংগঠনটির দাবি, ৫২ আসনের বাসেও ৪০ আসনের বাসের ভাড়া অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সিএনজিচালিত ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কাঠামো আলাদা হলেও বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার যাত্রায় গড়ে প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ৩৫০ টাকা আদায় হলে মোট বাড়তি আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া সিটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদ আরও প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে বাস-মিনিবাস খাতেই প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সমিতির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চালক-সহকারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস না দেওয়া এবং মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা—এসব কারণে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায়, নগদ লেনদেন বন্ধ, সড়ক-মহাসড়কে সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুঃসংবাদ, নতুন করে প্লাবিত হতে পারে ৪ জেলা

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

কারাগারে গুরুতর অসুস্থ ইরানের নোবেলজয়ী নার্গিস, নেয়া হলো হাসপাতালে

বিশ্বে বিরল ঘটনা: সন্তান যমজ কিন্তু বাবা আলাদা!

ঢাকা-দিল্লি পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ

থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিএনপিই সংস্কারের জনক: মির্জা ফখরুল

কেন নিয়মিত চোখ পরীক্ষা জরুরি

আলু ভর্তা-গরুর মাংসের বদলে এবার গ্রিলড চিকেন দেবে বিসিবি

১০

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের শপথ রবিবার

১১

চুলের যত্নে শ্রেয়া ঘোষালের ভরসা ‘ঘরোয়া টোটকা

১২