ভবিষ্যৎ অজানা। তবু নানা রঙে তা রাঙিয়ে চলা থেমে থাকে না। স্বপ্নডানায় ভর করে উড়তে চাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তবু বারবার ফিরে আসতে হয় বাস্তবে। তাই বর্তমান যেমনই হোক, তা সত্যি মেনে নিতে হয়। লাক্স সুপারস্টার বিদুষী বর্ণিতার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে দেখার যে বাসনা মনের মধ্যে লালন করেছেন, তা এতদিন অধরা ছিল।
শিক্ষার্থী হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও ‘প্রথম’ হওয়ার গৌরবের অধিকারী হতে পারেননি। এমনকি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও পৌঁছাতে পারেননি সাফল্যের শিখরে। তবু হার না মানা গল্প রচনায় থেমে থাকেনি এই বর্ণিতা।
নতুন উদ্যমে শুরু করেছেন পথচলা। এভাবেই অপরাজেয় এই তরুণী শেষমেশ ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন প্রতিভা আর সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতার আয়োজন ‘লাক্স সুপারস্টার’-এর বিজয়ী মুকুট। সেই সুবাদে একে একে খুলে গেছে স্বপ্ন পূরণের হাজারো দুয়ার। বহু কাঙ্ক্ষিত সেই দিনটি ছিল ৩ এপ্রিল। যে সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছিল ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালের আসর।
ঘড়ির কাঁটা ঠিক যখন ৭-এর ঘর স্পর্শ করে, তখনই শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন। সংগীত মূর্ছনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে থাকে প্রতিযোগীদের হৃৎস্পন্দন। এক পর্যায়ে আসে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পালা। এ সময় শুধু প্রতিযোগী নয়, উপস্থিত দর্শকের যেন বেড়ে গিয়েছিল উৎকণ্ঠা। কৌতূহলী চোখ-মুখ শুধু প্রহর গুনে চলছিল ফলাফল জানার। কে হবেন এবারের লাক্স সুপারস্টার? এই প্রশ্ন ছিল সবার চোখে-মুখে। একে একে ঘোষিত হলো বিজয়ীদের নাম।
প্রথম রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম এবং দ্বিতীয় রানারআপ পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুলের নাম ঘোষণার পর সবার হৃৎস্পন্দন যেন আরও বেড়ে গিয়েছিল। কারণ তখন বাকি কেবল একজনের নাম ঘোষণা। সেই একজনই হবে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর চ্যাম্পিয়ন। তখনও মঞ্চে দাঁড়িয়ে খুলনার প্রতিযোগী নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, রাজশাহীর বিদুষী বর্ণিতা এবং ঢাকার তিস্তা পাল। অবশেষে সবার কর্ণকুহরে পৌঁছে দেওয়া হলো বিজয়ীর নাম, বিদুষী বর্ণিতা। নাম ঘোষণার পর করতালিতে মুখর হয়ে উঠল মিলনায়তন।
মঞ্চে এসে বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন আরেক লাক্স সুন্দরী, সময়ের শীর্ষ মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান। এর মধ্য দিয়ে বর্ণিতার কেটে গেল কোনোদিন ‘প্রথম’ না হতে পারার সমস্ত আক্ষেপ।
‘লাক্স সুপারস্টার’ হওয়ার পর এখন বিদুষী বর্ণিতার শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পালা। শিগগিরই তাঁকে দেখা যাবে নন্দিত নির্মাতা রায়হান রাফীর সিনেমায়। পাশাপাশি আরও অনেক সৃজনশীল কাজের সুযোগ তো থাকছেই। তবে বর্ণিতা যে ভালো কিছু করে দেখাবেন, তা কিছুটা অনুমান করা যায় তাঁর পুরোনো অধ্যায় ঘেঁটে। জানা যায়, বর্ণিতা সিনে দুনিয়ায় নবাগত নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হতে চলেছেন ঠিকই, কিন্তু অভিনয়জগতে তিনি নতুন নন।
সাংবাদিক মেহেবুব আলম বর্ণ ও মেরী ইয়াসমিনের এই সুযোগ্য কন্যা অনেক আগেই চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় নিজ অবয়ব তুলে ধরেছিলেন। সেটা আবার নাসির উদ্দীন ইউসুফের মতো বরেণ্য নির্মাতার নির্দেশনায় আলোচিত ‘গেরিলা’ সিনেমার মাধ্যমে। তার আগে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। রাজশাহীতে জন্ম হলেও বর্ণিতার বেড়ে ওঠা মূলত ঢাকায়। তাঁর বাবা রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।
অন্যদিকে তাঁর মা যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। সে কারণে সাংস্কৃতিক বলয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন বর্ণিতা। ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করার সুবাদে জন্ম নিয়েছে পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা।
এরপর ধীরস্থিরভাবে পথচলা শুরু করে পৌঁছে গেছেন স্বপ্নপূরণের কাঙ্ক্ষিত আসরে। ‘লাক্স সুপারস্টার’ শিরোপা জয় করে এখন যার নতুন যাত্রা শুরু। এ নিয়ে বর্ণিতার কথা একটাই, ‘এই শিরোপা সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে– ‘আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।’