ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের দুটি সরকারি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।
অ্যাক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদিত নতুন “ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার” নীতির অংশ। এর আওতায় হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলা ঠেকাতে এবার সরাসরি ইরানি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, এটি ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারের অভিযানে ইরানের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এসবের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, যোগাযোগ অবকাঠামো, মাইন পাতা ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ছিল।
দুটি ইরানি ট্যাংকার ইরানের উপকূলের কাছে মার্কিন নৌ অবরোধ রেখার উত্তরে নোঙর করা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। মার্কিন ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ট্যাংকার দুটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে বলে Axios-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান প্রায় ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এগুলোর একটি অংশ জর্ডানের আকাশসীমার দিকে যায় এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে আইআরজিসির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবেই মঙ্গলবারের অভিযান চালানো হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করেছে। তবে স্বাধীন জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছিল এবং কোনো তরল জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারের চলাচল রেকর্ড হয়নি।
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানিও ব্যাপকভাবে কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
নতুন এই হামলা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।