সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান গ্যাস সংকট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কেটে যাবে এবং ধীরে ধীরে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সংকট নিরসনে সরকার বসে নেই; বরং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটিকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিরও সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপরও পড়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অবকাঠামোগত ও কারিগরি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহেশখালীতে থাকা গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেই ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি কার্যক্রম শেষ হলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তার প্রত্যাশা, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ ও শিল্প-কারখানাগুলো স্বাভাবিক সরবরাহ পেতে শুরু করবে।

রিজভী আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে। দেশে জ্বালানি নিয়ে নানা ধরনের সংকট ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এমনকি বিদেশ থেকে দেশে জ্বালানি নিয়ে আসার পথেও একাধিক জাহাজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলেও সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশ পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার এবং দল একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য, দেশের সামনে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোকে একে একে মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, জনগণের সামনে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করাই বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পর দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে এই পথে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এসব বাধা মোকাবিলা করেই সরকার দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমানের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জনগণের কাছে তারেক রহমান যেসব অঙ্গীকার করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি রয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিষ্ঠা, জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়ানো। ৩১ দফায় যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দিয়ে গেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচি আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলটির সামনে নানা সময় নানা ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র এসেছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি এগিয়ে গেছে। তার দাবি, বিএনপি ওয়াদা রক্ষাকারী দল এবং জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিএনপি সামনে এগিয়ে যাবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বারবার গণতন্ত্র হত্যার মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের বিভিন্ন রূপ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সেই সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাই কোর্ট

সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: রিজভী

যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ, দোষীদের গ্রেপ্তার দাবিতে সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫

‘গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস’

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর মেসির, আর দেখা যাবে না নীল-সাদা জার্সিতে

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

সংসদীয় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস আইপিইউ মহাসচিবের

সার্বিক উন্নয়নে ৩ জেলায় মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

১০

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিজিবিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

১১

রোজার পরেই এইচএসসি পরীক্ষা, পেছানোর কারণ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

১২