মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ সোমবার (৩১ আগস্ট)। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে বিচারিক আদালত মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন।
মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানিতে অংশ নেন।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া আক্তার। ওই রাতে বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আদালত। ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
পরে ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
রায়ে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।
আজকের রায়ের মাধ্যমে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।