চার লাখ চাষির জন্য বরাদ্দ ১০৪৫ টন টিএসপি

ছবি: সংগৃহীত

আমনের ভরা মৌসুমে জমির জন্য জরুরি ভিত্তিতে সার দরকার। এ জন্য গতকাল রোববার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুসা বাজারে ডিলারের দোকানে যান কৃষক সাজ্জাদ। তাঁর ২০ কেজি সারের প্রয়োজন হলেও ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পেয়েছেন মাত্র পাঁচ কেজি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে কাজও করা যাচ্ছে না, আবার যতটুকু সার প্রয়োজন তার এক চতুর্থাংশ পাচ্ছেন।

দারুসা বাজারের বিএডিসি সার ডিলার জীবন কুমারের দোকানের সামনে এদিন লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শতাধিক কৃষক। তাদের একজন হজরত আলীর অভিযোগ, ডিএপি আর টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা দোকানে দাম নেওয়া হচ্ছে সরকারি দরের দ্বিগুণ। বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আরেক চাষি শামসুর রহমানের ভাষ্য, ‘ব্যবসায়ীরা এই সংকট সৃষ্টি করেছে। আমরা কৃষকরা পড়েছি বিপদে।’

রাজশাহী জেলাজুড়ে আমনের ভরা মৌসুমে সারের সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চাষিরা ঘুরছেন ডিলারের দ্বারে দ্বারে। আর খুচরা বিক্রেতারা তাদের জিম্মি করে প্রায় দ্বিগুণ দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন। কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এক হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া সারের বস্তা খুচরা দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ টাকায়। এক হাজার টাকার পটাশ সারের জন্য এক হাজার ৩০০ টাকা, এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সারের জন্য তিন হাজার টাকা, ১০৫০ টাকার ডিএপি সারের জন্য এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে তাদের। 

দারুসা বাজারের ডিলার জীবন কুমারের দাবি, ‘চাহিদামতো সার বরাদ্দ পাচ্ছি না। বরাদ্দ খুব কম। ২০ টন বরাদ্দ পেয়েছিলাম। ডিএপি এসেছে ৬৬ বস্তা। এটাই বিতরণ করেছি।’ তিনি সারের বরাদ্দ বাড়াতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

বরাদ্দ অপ্রতুল

এদিকে রাজশাহীর চার লাখ ১২ হাজার কৃষকের জন্য সেপ্টেম্বর মাসের জন্য টিএসপি সার বরাদ্দ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪৫ টন। এই হিসাবে এক বস্তা করে দেওয়া হলেও টিএসপি পাবেন মাত্র ২০ হাজার ৯০০ কৃষক। সব কৃষককে যদি সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে প্রত্যেকের ভাগে আড়াই কেজি টিএসপি পড়বে। এ ছাড়া একই হারে চার কেজি এমওপি ও সাত কেজি ডিএপি পাবেন তারা।

এই বরাদ্দকে অপ্রতুল জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিটের নেতারা। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় নগরীর রেলগেট এলাকায় সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির জেলা সভাপতি মো. ওসমান আলী। তিনি বলেন, রাজশাহীতে সরকারি গুদামে সারের মজুত নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সামঞ্জস্য নেই। তাই ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে।

সেখানে তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এক হাজার ৪৫ টন টিএসপি, এক হাজার ৬২৯ টন এমওপি ও তিন হাজার ১৫ টন ডিএপি বরাদ্দ হয়েছে। বিএফএর নেতারা বলেন, কৃষকের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারের বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

এ সময় সংগঠনের পক্ষে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ বৃদ্ধি, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপবরাদ্দ, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ, ডিলারের কমিশন পুনর্নির্ধারণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাজশাহীতে বিসিআইসির ৮৬ জন, বিএডিসির ১৩০ জনসহ মোট ডিলার সংখ্যা ২১৬ জন। এ ছাড়া আছেন ৪৭৫ জন কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা। ডিলারদের দাবি, তারা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার তুলে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে দায় সবার ওপর চাপানো উচিত নয়। তাদের অভিযোগ, কেউ কেউ প্রয়োজনের আগেই সার কিনে মজুতের চেষ্টা করছেন। নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষের জন্য এখনই সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করছেন। এতে সারের চাহিদা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ছে। 

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়। এসব পুকুরের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ডিলাররা বলেন, নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করতে চান তারা। বর্তমানে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা ও এমওপি এক হাজার টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

এসব বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, কৃষক অনেক হলেও সবাই আমন চাষ করেন কিনা– দেখতে হবে। গতবারের বরাদ্দের চেয়ে এবার বেশি বরাদ্দ এসেছে। যদি বরাদ্দ আরও প্রয়োজন হয়, তাহলে আবার চাহিদা পাঠাবেন। ইতোমধ্যে বেশি চাহিদা পাঠিয়েছেন। ধানে ইউরিয়া সার লাগবে। টিএসপি, ডিএপি এসব সার এখন লাগবে না। তাঁর দাবি, চাষিরা আগামীতে আলু-পেঁয়াজের চাষের জন্য সার সংগ্রহ করছেন। এ জন্য মনে হচ্ছে, সার সংকট। বাস্তবে কোনো সংকট নেই।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাগুরায় শিশু হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

চার লাখ চাষির জন্য বরাদ্দ ১০৪৫ টন টিএসপি

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে এক বিদেশি আইনজীবীর আবেদন

জুলাইয়ে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৮৩ শতাংশ

মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় বাড়াল সরকার

নতুন পে-স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

দুদকের মহাপরিচালক হলেন নাজমুল আলম

আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

১০

ফের ভাইরাল হানিয়া আমিরের ভিডিও, সমালোচনার ঝড়

১১

মক্কা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১২