দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের আসন্ন সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময়ই চমৎকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে এই সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন বিশেষ দূতের সফর নিয়ে করা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ এসব কথা বলেন। তিন দিনের সরকারি সফরে আগামী ৩০ জুলাই ঢাকায় আসার কথা রয়েছে মার্কিন দূতের।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। এই সফরের মধ্য দিয়ে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ঢাকা ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে চায়।
শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন যে, গরের ঢাকা সফরে এসব বিষয়ের পাশাপাশি নতুন কোনো ক্ষেত্র তৈরি হলে সেটাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
সফরকালে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে কথা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন।
সার্জিও গর বর্তমানে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, গত বুধবার ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সার্জিও গর উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।