চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হোঁচট খেয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখানো গ্রিন ফ্যালকনরা এবার উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছে। সোমবার রাতে মিয়ামি স্টেডিয়ামে সৌদি আরব ও উরুগুয়ের মধ্যকার ‘এইচ’ গ্রুপের লড়াইটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
লাতিন দলটির থেকে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ায় দলের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগকে কৃতিত্ব দিয়েছেন সৌদি আরবের কোচ জর্জিওস দনিস, ‘আমাদের চমৎকার একজন গোলরক্ষক ছিল এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে।’
৪১ মিনিটে ডিফেন্ডার আবদুলেলাহ আল আমরির গোলে ম্যাচে এগিয়ে যায় গ্রিন ফ্যালকনরা। সেট পিস থেকে উড়ে আসা বলে হাসান তামবাক্তির হেড ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি উরুগুয়ে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। সামনে থাকা আল আমরি সুযোগ পেয়েই বল জালে পাঠিয়ে দেন।
বিরতির পর প্রায় পুরোটা সময়ই সৌদিকে কোণঠাসা করে রেখেছিল উরুগুয়ে। ম্যাচে সমতা ফেরানোর তাড়নায় প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের ঢেউ সৃষ্টি করে অবশেষে ৮০তম মিনিটে সফলতা পায় উরুগুয়ানরা। ভিনাসের হেড থেকে আসা বল ঠেকিয়ে দিয়ে পার পাননি সৌদি গোলরক্ষক আল ওয়াইস। তাঁর ফেরানো বল পেয়ে যান মার্কাস আরাউহো। ডি বক্সের ভেতর থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান। পরে প্রতিপক্ষের অন্তত আরও তিনটি গোলের সুযোগ দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করেন আল ওয়াইস। এতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
উরুগুয়ের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেয়ে খুশি সৌদি কোচ দনিস। বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে (গত এপ্রিলে) গ্রিন ফ্যালকন দলের দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ বলেন, ‘যখন আমরা (উরুগুয়ের মতো) এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছি; এটি দারুণ ইতিবাচক। এই ফলাফল খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াবে।’
সৌদি কোচ যোগ করেন, ‘ম্যাচটি যদি আমরা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাব, দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম। কারণ আমরা ইতোমধ্যে গোল করে ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিলাম এবং আমরা সেই ব্যবধান ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। আমাদের মনে হতে পারে সম্ভবত আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। খেলোয়াড়দের দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছিল। কারণ আমাদের খেলার ধার আগের মতো ছিল না।’