জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিনব কৌশলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। পরপর দুই দিনে প্রায় একই ধরনের ৩টি ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি। একই সাথে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেও বার্তা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালীন নিয়ম অনুযায়ী তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রটি পুলিশ পরিচয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে। এরপর তারা মাদকসহ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে তার বাবাকে জানায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরদিন ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) একইভাবে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করে একই কায়দায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।
এই ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারও একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা চালায় চক্রটি। এবার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আরেক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে তারা। ফোনে জানানো হয়, তার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। পরে সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে এবং ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনানোর মাধ্যমে পরিস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য চাপ দেয়া হয়।
তবে আগের ঘটনার বিষয়ে জানার কারণে ওই অভিভাবক তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠাননি। তিনি পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।
পরপর দুই দিনে একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনকে এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও উদ্বেগজনক প্রতারণার একটি নতুন কৌশল। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ফোন বন্ধ থাকে, এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়েই প্রতারকরা অভিভাবকদের আতঙ্কিত করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।
অভিভাবকদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফোনকল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে কখনই সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাঠাবেন না। পরিচয় যাচাই না করে কোনো তথ্য বা অর্থ প্রদান করবেন না। আপনার পরিবারের সদস্যদেরও এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করুন। একটু সচেতনতা আপনার পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ এবং আপনার পরিবারের মানসিক শান্তি দুটোই রক্ষা করতে পারে।