সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। বুধবার (১৭ জুন) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে উভয় পক্ষই কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে আন্তরিক।’ তবে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে শক্তিশালী যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক ইরানি হামলা আস্থার মারাত্মক ক্ষতি করেছে এবং বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা পিছিয়ে দিয়েছে।’
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ‘আমরা গতি সঞ্চয় করতে শুরু করেছিলাম এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করতে শুরু করেছিলাম। আমরা এখন পিছিয়ে গেছি। ইরানের সঙ্গে বড় আকারের বিনিয়োগ বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে যেকোনো আলোচনার আগে আস্থা ও সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতের কোনো চুক্তি শুধু পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক উদ্বেগগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’ দীর্ঘমেয়াদে কেবল সামরিক পন্থা কার্যকর হতে পারে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।