বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, এই বিষয়টি এর আগেও অন্তত দুইবার প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিষ্কার করেছি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকেও বারবার জানানো হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পরিদর্শন শেষে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ বলেন, আমার পদত্যাগের দুই মাস পর এই চুক্তিটি হয়েছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে এটি সম্পর্কে জানার সুযোগ আমার ছিল না। যতদূর জানি, আমরা যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি, তখন স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেছি। কিন্তু যারা আলোচনায় ছিলেন, সবার কাছ থেকেই প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। তারা বলেছেন, চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি নন-ডিসক্লোজার হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। তাই অনেক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গেই হয়তো আলোচনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সমালোচনামূলকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছি, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা না করাটা ঠিক হয়নি। এনসিপির সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করা উচিত ছিল। পাশাপাশি, যারা এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদেরও আমরা জানিয়েছি যে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
এই চুক্তি নিয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে আসিফ বলেন, আমাদের আহ্বায়কও বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে সবাই এর সুফল-কুফল (প্রস অ্যান্ড কনস) বুঝতে পারে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া ও টকশোতে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার হচ্ছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বৈঠকে তাদেরও বলেছি, এ বিষয়ে যোগাযোগ আরও কার্যকরভাবে করা প্রয়োজন। ইউএস অ্যাম্বাসিরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। তবে কিছু বিষয়ে আমাদের সমালোচনামূলক অবস্থান রয়েছে এবং সেসব বিষয় আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।