নেতানিয়াহুকে বন্দিবিনিময়ের প্রস্তাব মেনে নিতে বললেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান

ছবি সংগৃহীত।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান বন্দিবিনিময় প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গাজা নগরী দখলের পরিকল্পনা বন্দিদের জীবনের জন্য “গুরুতর ঝুঁকি” তৈরি করছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) নেতানিয়াহুকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে এ আহ্বান ঠিক এমন সময় এল, যখন বন্দিদের পরিবার থেকে ক্রমশ চাপ আসছে, যেন দ্রুত একটি সমঝোতায় গিয়ে প্রিয় মানুষদের মুক্ত করা যায়।

এর আগে সব জিম্মি মুক্তির জন্য অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি গাজা নগরী দখল ও এর বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও চালিয়ে যেতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হয়তো নতুন শর্তে কোনো ধরনের চুক্তি খুঁজছেন তিনি। তবে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় আসা যে প্রস্তাবটি সাম্প্রতিক হামাস গ্রহণ করেছে, তা আগের ইসরায়েলি সমঝোতার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। ফলে এখন মধ্যস্থতাকারীরা নেতানিয়াহুর আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছে।

এদিকে সেনাপ্রধান এয়াল জামির এক বক্তব্যে বলেন, একটি প্রস্তাব রয়েছে টেবিলে, তা এখনই গ্রহণ করা উচিত। সেটি বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনী সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত এখন নেতানিয়াহুর হাতে।

এ সময় তিনি গাজা নগরী দখলের পরিকল্পনা নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী গাজা দখলের জন্য সক্ষম। কিন্তু এই অভিযান বন্দিদের জীবনের ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি তৈরি করবে।

ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছে গাজায় বন্দিদের পরিবার। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ইসরায়েলের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের দাবি প্রতিফলিত করেছেন। দাবি হলো- একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হোক এবং ৫০ জন বন্দিরা আসুক ও যুদ্ধ শেষ হোক।

ইসরায়েলের হিসাব বলছে, হামাসের কাছে এখনো তাদের ৫০ জন জিম্মি রয়েছে, এদের মধ্যে ২০ জন জীবিত। আর ইসরায়েলি কারাগারে ১০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আটক। অধিকারকর্মীরা বলছেন, বন্দিবাসীরা নিয়মিত নির্যাতন হচ্ছেন এবং চিকিৎসাসেবায় অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

এর আগে গত শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজা নগরী দখল করার জন্য সেনা পরিকল্পনায় অনুমোদন দেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, ব্যাপক গোলাগুলি হবে এবং মানুষকে স্থানচ্যুত করা হবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় প্রায় ৬২ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

আমিরাতে ইরানের হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ৩

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ ইসরায়েলি নিহত

লেখালেখি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ড. মাহবুব হাসান ও আবদুল হাই শিকদার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনে বাংলাদেশের নিন্দা

ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সেনাপ্রধান নিহত, নিশ্চিত করল তেহরান

দীর্ঘস্থায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

ইরানে কে হচ্ছেন খামেনির পর ক্ষমতার উত্তরসূরি?

হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা, খোঁজ নিলেন তারেক রহমান

১০

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

১১

যমুনা ছাড়লেন ড. ইউনূস

১২