প্রথম ধাপে ৭৩৫ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল

সংগৃহিত ছবি।

গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করেছে।

শনিবার ভোরে ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের এই চুক্তি তিন ধাপে কার্যকর হবে। এর মধ্যে আগামীকাল রোববার থেকে ছয় সাপ্তাহ ধরে চলবে প্রথম ধাপের কার্যক্রম।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন দিতে দেশটির ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভা আলোচনায় বসে। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার বৈঠকে চুক্তিটি অনুমোদন দেয় ইসরায়েলি সরকার।

চুক্তি অনুমোদনের পরপরই দেশটির মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি জানায়, রোববার থেকে এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হচ্ছে। এদিন ৯৫ জন ফিলিস্তিনিকে বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যার মধ্যে ৭০ জন নারী এবং ২৫ জন পুরুষ থাকবেন। একই বিবৃতিতে ২৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া মুক্তি পেতে যাওয়া বাকি বন্দিদের নাম প্রকাশ করে ইসরায়েলি সরকার।

অন্যদিকে, রোববার তিন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানায়, ৯৫ ফিলিস্তিনির বিনিময়ে তিনজন ইসরায়েলি বেসামরিক নারী বন্দি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির তিন ধাপে যা রয়েছে—

প্রথম ধাপ

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় ছয় সাপ্তাহব্যাপী চলমান থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সীমিত পরিসরে বন্দি বিনিময়, গাজা থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা উপকূলে সাহায্য প্রবেশের সীমা বাড়ানো হবে।

প্রথম ধাপে ইসরায়েলের ৩৩ জন বন্দি মুক্তি পাবে। এর মধ্যে নারী, শিশু ও পঞ্চাশোর্ধ বেসামরিক নাগরিক রয়েছে। এসব বন্দিদেরকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েল থেকে আটক করে হামাস। অন্যদিকে ৩৩ বন্দি মুক্তির বিনিময়ে প্রায় ৭৩৫ বন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্ত দেবে ইসরায়েল। এর মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও থাকবে।

বন্দি বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েল গাজার জনবহুল এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। গাজা সীমান্তের অভ্যন্তরে ৭০০ মিটারের মধ্যে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে। তবে নেটজারিম করিডোর (দক্ষিণ গাজাকে আলাদা করার একটি সামরিক সীমানা) এ শর্তের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল।

উত্তর গাজার নাগরিকদের তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক খাদ্য সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। আহত ফিলিস্তিনিরা চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবে। প্রথম ধাপের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাতদিনের মধ্যে মিসরে প্রবেশের রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি সেনারা ফিলাডেলফি করিডরে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনবে, যা মিসর ও গাজার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। এই চুক্তি কার্যকরের ৫০ দিনের মধ্যে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল।

দ্বিতীয় ধাপ

দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, হামাস সমস্ত জীবিত বন্দিকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে আটক আরও ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইসরাইল গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু করবে।

দ্বিতীয় ধাপের শর্তগুলো পূরণ হলে বাকি বন্দিদের মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। এরপর গাজা পুনর্গঠনের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা করা হবে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন

৮ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার সহপাঠীর বাবা

শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের উক্তি শেয়ার করে মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে বাঘাই বললেন, 'দৈত্যের পোশাক বামনের গায়ে'

শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের উক্তি শেয়ার করে মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে বাঘাই বললেন, 'দৈত্যের পোশাক বামনের গায়ে'

দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন দীপিকা, প্রথম প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনায় অভিনেত্রী

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ফিফার কাছ থেকে ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৬৩ কোটি টাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচার স্বত্ব কিনেছে বিটিভি

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

জামায়াতে আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেওয়ার খবর 'ভিত্তিহীন'

১০

ইউনূস সরকারের আমলের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ঢাকা-দিল্লি

১১

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

১২