বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে যে পা বাড়িয়েছে, সেখান থেকে তাদের ফিরে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে '২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের নামে কেবল সংবিধান সংশোধন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। গণভোটে জনগণের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলনের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সর্বত্র আজ দলীয় করণের বাসা বেঁধেছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা উপজেলাতে প্রকল্পে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। যেখানে বিরোধী দলীয় এমপি রয়েছে, সেখানেও দলীয় লোকজন দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পার্থক্য কি থাকলো। শুধু দলের নাম পাল্টিয়েছে, চরিত্র তো একই রয়েছে। এই জন্য তো গণঅভ্যুস্থান হয়নি। আপনারা ফ্যাসিবাদের যে পথে পা বাঁড়িয়েছেন, সেখান থেকে ফিরে আসুন।
জুলাই সনদে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে সরকার মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংশোধন আর সংস্কার তো এক জিনিস না। জুলাই সনদে ভিন্ন মতগুলো বাদ দিয়ে সংস্কারের ছড়ি ঘুরাবেন; জনগণ সেটা মেনে নিবে না। সংশোধন মানেন, সংস্কার মানবেন না সেটা হবে না। আপনারা সংবিধান মানেননি সেটা সংসদে ভুল স্বীকার করেন। বলেন- যেহেতু সংবিধানের ট্রেন মিস করেছি, এখন সংসদে আসেন উভয় মিলে আলোচনা করে সংশোধন না সংস্কারের কমিটি করি। আপনারা প্রস্তাব দেন; তার পরে বিরোধী দল বিবেচনা করবে আপনাদের প্রস্তাব। কিন্তু আপনারা সংস্কার না করে সংশোধনের উপর ন্যাস্ত থাকবেন, যখন তখন বিরোধীদলকে সংস্কারের ছড়ি ঘুরিয়ে যা ইচ্ছা করবেন তাহলে তো সেই আপনি ফ্যাসিবাদের দিকেই যাচ্ছেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবীর এবং এনসিপি যশোরের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।