কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার আগে নানা পরিকল্পনা করেন আসামিরা। তার মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হচ্ছে হত্যার পর কীভাবে নিজেদের সন্দেহের বাইরে রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেন অভিযুক্তরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হত্যার আগে ফাহাদ বিভিন্ন গোয়েন্দা সিরিজ দেখেছিলেন। সেখানে অপরাধ সংঘটনের পর কীভাবে তদন্তকারীদের নজর এড়ানো যায়, সেসব বিষয় থেকে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘটনার আগে ও পরে কয়েক দিন ফাহাদ নিজের মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে বাইরে বের হতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, পুলিশের প্রযুক্তিগত তদন্তে যেন ঘটনার সময় তার মোবাইলের অবস্থান বাড়িতে দেখায়। বাস্তবে বাইরে থাকলেও মোবাইলের অবস্থান দিয়ে নিজের জন্য তৈরি করতে চেয়েছিলেন ঘটনার সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করা।
ফাহাদকে আটক করলে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন। এমনকি যদি এমন কাজে জড়িত থাকেন তাহলে তার লোকেশন ট্র্যাক করার কথাও বলেন। শুধু প্রযুক্তিগত প্রমাণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নয়, ঘটনার পর আচরণেও ছিল পরিকল্পনার ছাপ।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সানন্দা এলাকায় উদ্ধার করা হয় অপ্রতিমের মরদেহ। এ ঘটনায় পুলিশ তুহিন, ফাহাদসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। এরই মধ্যে তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। খুব শিগ্গিরই এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।