আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঈদে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
রোববার রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সমন্বয় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
সভায় জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি নদীবন্দর, লঞ্চঘাট ও টার্মিনালে নজরদারি বাড়ানো হবে। পন্টুনে সিঁড়ি সঠিকভাবে স্থাপন এবং রেলিং ছাড়া যাত্রী ওঠানামা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঈদের সময়ে কোনো অবস্থাতেই দায়িত্বে অবহেলা করা যাবে না। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’
সভায় আরও জানানো হয়, সদরঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি বন্দরে টহল টিম ও স্পিডবোট প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ ও জরুরি সহায়তার জন্য ১৬১১৩ হটলাইন নম্বর চালু রাখার পাশাপাশি এর প্রচার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন সার্বক্ষণিক সচল রাখা এবং ডিউটির সময় ওয়াকিটকি ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সভায় কালবৈশাখী মৌসুমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, কোরবানির পশুবাহী নৌযানের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা এবং টার্মিনাল এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালকে হকারমুক্ত রাখা, যানবাহন পার্কিং সুশৃঙ্খল করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।