দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস প্রায় চার বছর বিরতির পর আজ তাদের পঞ্চম অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করেছে। সিউলে আজ শুক্রবার শুরু হওয়া প্রত্যাবর্তন কনসার্টের আগ মুহূর্তে প্রকাশিত এই অ্যালবামে সাত সদস্যের শিকড় ও পরিচয় ফুটে উঠেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ‘আরিরাং’ অ্যালবামের ১৪টি ট্র্যাকে রয়েছে ‘হুলিগান’ ও ‘সুইম’সহ নতুন গান। অ্যালবামের নাম ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান লোকগান ‘আরিরাং’-এর থেকে নেওয়া হয়েছে।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই জানিয়েছে, অ্যালবাম প্রকাশের আগেই ৫০ লাখের বেশি ভক্ত প্রি-সেভ বা নোটিফিকেশন চালু করেছেন, যা কে-পপে নতুন রেকর্ড।
শনিবার সিউলের ঐতিহাসিক গওয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে প্রায় চার বছর পর আবারও এক মঞ্চে হাজির হবেন বিটিএসের সাত সদস্য। প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার দর্শক সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
কনসার্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনলাইনেও দেখা যাবে। নেটফ্লিক্স সরাসরি সম্প্রচার করবে। ব্যান্ডের নেতা আরএম রিহার্সালের সময় পায়ে চোট পেলেও পারফরম্যান্সে থাকবেন। চিকিৎসকরা বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি মঞ্চে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও কিছু নাচের অংশ সীমিত থাকবে। সিউলে কনসার্ট ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ। শহরের রাস্তায় ও মোড়ে ‘বিটিএস ও তার ভক্ত আর্মিকে স্বাগত’ ব্যানার লাগানো হয়েছে।
সংগীত বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন অ্যালবামটি যেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি বিটিএস-এর এক ধরনের ভালোবাসার চিঠি। এই প্রত্যাবর্তন সংগীত জগতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিটিএস বা ‘বাংতান বয়েজ’ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাত সদস্য হলেন- আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জং কুক।
বিটিএসের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘ডায়নামাইট’, ‘বাটার’। তারা বিলবোর্ড টপ ১০০-এ একাধিকবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে।
বিটিএসের ভক্তদের বলা হয় ‘আর্মি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ফলোয়ার সংখ্যা বিপুল- ইনস্টাগ্রামে ৬ কোটি, ইউটিউবে ২.৫ কোটি সাবস্ক্রাইবার।
নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ ও প্রত্যাবর্তন কনসার্টের মাধ্যমে বিটিএস আবারও বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করতে প্রস্তুত। সিউল ও অনলাইনে এই অনুষ্ঠান দেখতে ভক্তরা উৎসুক।