বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর, ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরু‌দ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।  একই সঙ্গে হামলা ও ভাঙচুরে আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বিটিআরসি ভবনের কাচের দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় বিটিআরসি ভবনের সামনে পার্ক করা ৫১ আসনবিশিষ্ট একটি এসি স্টাফ বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭০৩৫) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে বিটিআরসি ভবন ও যানবাহন ভাঙচুরে প্রায় দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ এনইআইআর সিস্টেম চালুর বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর সিস্টেম চালু করা হয়। পরে এ সিদ্ধান্তের খবরে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন এবং কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে দুষ্কৃতকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আরও ১০ জন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করেন এবং তাদের সহায়তায় এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন—এমন দাবি করা হয়েছে এজাহারে। বাকি অজ্ঞাত আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান বলেও উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিসিয়াল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করা হয়েছে। 

এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দেশের মোবাইল ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়ন বাতিল

বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর, ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরু‌দ্ধে মামলা

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ড. কামাল হোসেন

বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ঢল

আগামী ৫ দিন থাকতে পারে শীতের দাপট, ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা

আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার না করলে জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না: শফিকুল আলম

ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামতে পারলো না আন্তর্জাতিক ৯ ফ্লাইট

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন জাইমা রহমান

যশোরে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি

১০

খালেদা জিয়ায় জন্য কাল দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আহ্বান

১১

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

১২