শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতা চালিয়ে দেশের শিল্প খাত ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে তিনি এ পথসভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কলকারখানায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। তারা কারখানায় গিয়ে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি নষ্ট করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের কর্মস্থল ও দেশের শিল্পসম্পদের ক্ষতি করতে পারেন না।
তারেক রহমান বলেন, দেশের কলকারখানাগুলো জাতীয় সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। বিশেষ করে শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির কলকাঠি নাড়ছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কাজও শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে আর অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। এ অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।