সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ খান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মধ্যেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার হয়রানি, মিথ্যা মামলা, কারাবরণ এবং জেল-জুলুমের শিকার হলেও তিনি কখনোই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেই সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের আগেও আব্দুল মজিদ খান মসজিদ-মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নীরবে কাজ করে গেছেন। তবে সে সময় রাজনৈতিক বাধার কারণে তাকে প্রকাশ্যে অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তিনি নিজস্ব উদ্যোগে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি নির্বাচনমুখী রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০০১ সালে প্রথমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৫ হাজার ভোট লাভ করেন। ওই নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ হাজার ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবারও নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও সেই ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তার সমর্থকরা অভিযোগ করেন। নির্বাচনী সময় তার নেতাকর্মীরা হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। এসব বাধা-বিপত্তির পরও তিনি রাজপথ ও ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময় আব্দুল মজিদ খানকে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকতে হয়েছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কঠিন সময় পার করতে হলেও তিনি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, অসহায়দের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন পরিবারকে নীরবে সহায়তা করার কাজ চালিয়ে যান। তার এই মানবিক ভূমিকা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে আব্দুল মজিদ খানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। জেলা বিএনপি ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। সিরাজগঞ্জে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
৫ আগস্টের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরদিন থেকেই তিনি আহত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অনেককে আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি নিয়মিত খোজ খবর নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। পরবর্তী সময়েও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রমেই নয়, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন আব্দুল মজিদ খান। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট নিজ অর্থায়নে মেরামত করেছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কার ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় তরুণদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

এছাড়া তিনি অসংখ্য নেতাকর্মীর পরিবারের পাশে নীরবে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় কর্মসূচির বাইরে থেকেও মানবিক সহায়তা প্রদান, অসহায় মানুষের পাশে থাকা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল মজিদ খান বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বহু বাধা-বিপত্তি এসেছে, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, কিন্তু আমি কখনো পিছিয়ে যাইনি। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই নেতা বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলেও প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।