শুধু সৌন্দর্য নয়, নানা উদ্ভিদের ভেষজ গুণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। এশিয়ায় পরিচিত এমনই একটি উদ্ভিদ হলো নীল অপরাজিতা।এর উজ্জ্বল নীল ফুল দিয়ে তৈরি চা বর্তমানে ভেষজ পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অপরাজিতা ফুলের নীল রঙের জন্য দায়ী অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিদজাত যৌগ। এসব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে অপরাজিতা ফুলের চা নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
কী কী উপকার রয়েছে?
প্রসাধনী নির্মাতারা স্কিনকেয়ার থেকে শুরু করে চুল সব কিছুতেই অপরাজিতা ফুলের কার্যকারিতা নিয়ে গর্ব করেন। এর নির্যাস ত্বকের হাইড্রেশন ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া চুলের বৃদ্ধিতে এটি মিনোক্সিডিলের চেয়েও বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই এটি চুল পড়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ পণ্য।
অপরাজিতা ফুলের নির্যাস দেহের কিছু কোষের অগ্রগতিকে নিয়ন্ত্রণ করে চর্বির গঠনকে ধীর করে দিতে পারে। এতে থাকা টার্নেটাইন্স শরীরের চর্বি কোষের সংশ্লেষণ ব্লক করতে পারে।
অপরাজিতা ফুল ডায়াবেটিস সম্পর্কিত লক্ষণগুলোর ঝুঁকি কমাতে পারে। এর নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আয়ু বৃদ্ধির সর্বোত্তম উপায় হল যে কোন বয়সেই হৃদপিন্ডকে শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখা। এই কাজটি বেশ সুচারুরূপে করতে পারে নীল চা। এটি হার্ট অ্যাটাক, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদযন্ত্রের জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসাবে কাজ করে।
এই নীল চায়ে রয়েছে অ্যাসিটাইলকোলাইন যৌগ যেটি স্নায়ুকে শান্ত করার সময় স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধ করে। এটি এমনকি মধ্য বয়স্ক ব্যক্তিদের জ্ঞানীয় ক্ষমতাও বাড়ায়।
খালি পেটে নীল চা পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়। এক কাপ নীল চা প্যারাসিটামলের মত কাজ করে। ফলে এটি পেইন কিলারের উপর নির্ভরশীলতা কমায়। এর প্রদাহ বিরোধী
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো জ্বর সহ যে কোন ধরনের শরীর ব্যাথা উপশম করতে সক্ষম।
কীভাবে তৈরি করবেন নীল চা?
অপরাজিতা ফুলের চা তৈরি করা বেশ সহজ। এর জন্য প্রয়োজন কয়েকটি তাজা বা শুকনো অপরাজিতা ফুল এবং গরম পানি।
প্রথমে পানি ভালোভাবে গরম করতে হবে। এরপর কাপের মধ্যে অপরাজিতা ফুল দিয়ে তার ওপর গরম পানি ঢেলে দিতে হবে। সাধারণত কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই পানিতে ফুলের নীল রং ছড়িয়ে পড়বে।
চায়ের স্বাদ ও রঙের ঘনত্ব অনুযায়ী ফুলের পরিমাণ এবং ভিজিয়ে রাখার সময় সামান্য বাড়ানো বা কমানো যায়। অতিরিক্ত সময় ভিজিয়ে রাখলে স্বাদ তীব্র হতে পারে।
চায়ে স্বাদ বাড়াতে মধু কিংবা লেবুর রস যোগ করা যায়। বিশেষ করে লেবুর রস মেশালে নীল রঙের চা বেগুনি বা নীলচে-বেগুনি রঙে পরিবর্তিত হতে পারে। চাইলে বরফ দিয়ে এটি ঠান্ডা পানীয় হিসেবেও পরিবেশন করা যায়।
সতর্কতা জরুরি
অপরাজিতা ফুলের চা একটি ভেষজ পানীয় হলেও এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অতিরিক্ত পান করলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি, বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে কোনো ভেষজ পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, অপরাজিতা ফুলের নীল চা একটি আকর্ষণীয় ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ভেষজ পানীয় হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য গবেষণা প্রয়োজন।