যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে বারবার সামনে আসছে লেবাননের নাম। শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে দেশটি সরাসরি এই সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়লেও, বিশ্লেষকদের মতে লেবাননের গুরুত্ব ইরানের কাছে আরও গভীর। কারণ, দেশটিতে প্রভাবশালী হিজবুল্লাহ শুধু তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্রই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি হিসেবেও বিবেচিত।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
তবে লেবাননের গুরুত্ব ইরানের কাছে শুধু এই প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হিজবুল্লাহর গুরুত্ব এবং তেহরানের সঙ্গে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।
১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সমন্বয়ে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংঘাতে জড়ায়। ২০০০ সালে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার পর হিজবুল্লাহ নিজেদের বিজয় ঘোষণা করে।
বর্তমানে হিজবুল্লাহ লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি। এটি একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল এবং সামরিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে। লেবানিজ আর্মি মিলিটারি একাডেমির অধ্যাপক নাইম সালেম বলেন, ‘আরব বিশ্ব এবং পুরো অঞ্চলে হিজবুল্লাহই ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আদর্শিক মিত্র।’
গত কয়েক দশকে উভয় পক্ষ একে অপরকে রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির ওপর তারা জোর দিচ্ছেন, কারণ ইসরায়েল তাদের উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশটিতে হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ১০০টির বেশি হামলা চালায়। এতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।
গত ২ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এছাড়া সংঘাতের জেরে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে গত তিন দশকের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের আরও বেশি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েল।