নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রকল্পে কর্মরত ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি বহাল রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রেক্ষিতে এ দাবি জানানো হয়।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর আওতায় নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হস্তান্তরের পরিকল্পনায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৯৮ সাল থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৩৩১টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৮টি পৌরসভায় এ প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৭ কোটি নগরবাসীর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এ সেবার আওতায় রয়েছে।
প্রকল্পের অধীনে ৩০টি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র এবং ১৬২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মোট ১৯২টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি সরাসরি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, আর ৭৭টি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ব্যবহার করছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও মাঠকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে এই সেবা কার্যক্রমের প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ লাখের বেশি প্রসবপূর্ব সেবা, প্রায় ২ লাখ নিরাপদ প্রসব, ২৯ লাখ পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ১৯ লাখ টিকাদান, ১ কোটি ২৪ লাখ শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রায় ৭০ লাখ কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং পৌরসভা আইন অনুযায়ী নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ওপর ন্যস্ত। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় সেবা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নগরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মরতদের চাকরি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বর্তমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখাতে পারে।