যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টি দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এটা ‘অস্বাভাকি’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে পয়সা নেয় তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।
তিনি বলেন, ‘তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাকি মনে হচ্ছে না।
অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক নয়। এটা যদি সবাই গত এক বছরে যেত তাহলে আমি বলতাম যে আমরা দায়ী।
সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারো ওপর থাকে, সেটা হলো পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারিনি, পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কারণ মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নেই, কোনো সরকারেই ছিল না।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি।
একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।’