ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। ১৭২ রানে পিছিয়ে থেকে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের চোটের কারণে দলের হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে একাই প্রতিরোধ গড়ে তুললেন তাওহীদ হৃদয়। শুধু দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধারই করেননি, ব্যাট হাতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই রূপ দিয়েছেন অবিস্মরণীয় ডাবল সেঞ্চুরিতে।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিশতকের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ২৫ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এই তিনজনের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে সর্বোচ্চ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। সাকিব ও তামিম করেছেন একটি করে।
হৃদয়ের এই কীর্তি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে প্রথম সেঞ্চুরিতেই দ্বিশতক পূর্ণ করার কারণে। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরির সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মুমিনুল হকের ১৮১ রান। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন হৃদয়।
শুধু ব্যক্তিগত অর্জনেই থেমে থাকেননি তিনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এই মাঠে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক এখন হৃদয়। এর আগে সিলেটে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ এবং শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার এর আগে টেস্টে ১৫০ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। হৃদয় সেই বাধা পেরিয়ে পৌঁছে গেছেন ২০০ রানে। ৩০৪ বলের দুর্দান্ত ইনিংসে তাঁর সংগ্রহে ছিল ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা।
এই অসাধারণ ইনিংসে হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজন মিলে গড়েছেন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। টেস্টে এই উইকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ১৪৪ রানের জুটি, যা ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এসেছিল।
হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ালেও হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির পরও প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ২৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।