বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দলটির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আজ শুক্রবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০২ সালের ২২ জুন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তারেক রহমানকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরপরই তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি।
এর মধ্যে এক-এগারোর সময় জেলে যেতে হয়েছিল তারেক রহমানকে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিল।
গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে এতকিছুর পরও তারেক রহমানকে দমিয়ে রাখা যায়নি। প্রতিকূল সময়েও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমকে দলকে রাজপথে রেখেছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে হাজির হয় অগণিত নেতা-কর্মী।
এরপর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সামনে সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’