নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তখন ম্যাচের ৮৯ মিনিটের খেলা চলছে। উইংয়ে বল পেয়ে ছুটে গেলেন আর্লিং হলান্ড। একে একে কাটালেন সেনেগালের তিন তিনটি ডিফেন্ডারকে। যদিও সেই যাত্রায় অস্কার ববের শট পোস্টে লাগায় গোল আসেনি, তবে ওই একটি মুহূর্তই বলে দিচ্ছিল আজ নিউ জার্সির মাঠটি শুধুই হলান্ডের।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেনেগালের লড়াকু মানসিকতাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক থ্রিলার ম্যাচে আফ্রিকান পরাশক্তিদের ৩–২ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে নরওয়ে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠেছিল ভাইকিংরা, দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেই আবারও শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল দলটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে নরওয়েকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন বদলি ডিফেন্ডার মার্কুস পেদারসেন। সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির এক মারাত্মক ভুল পাস ধরে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন পেদারসেন। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর শুরু হয় হলান্ড তাণ্ডব। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মার্টিন ওডেগার্ডের এক জাদুকরী পাস থেকে নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকে বল জালে জড়ান হলান্ড। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সেনেগাল; ৫ মিনিট পরেই সাদিও মানের পাস থেকে ১টি গোল শোধ করেন ইসমাইলা সার।
তবে ৫৮ মিনিটে সেনেগালের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে এক দর্শনীয় ভলিতে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার হলান্ড। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই একাধিক গোল করা ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লেখান তিনি।
নরওয়ের জার্সিতে এটি তার টানা ১২তম ম্যাচে গোল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯৩ মিনিটে) সেনেগালের হয়ে ইসমাইলা সার আরও একটি গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই জয়ে গ্রুপ 'আই' থেকে ফ্রান্সের সাথে যৌথভাবে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে পা রাখল নরওয়ে, আর বিদায়ের ক্ষণগণনা শুরু হলো সেনেগালের।