ঘুণে ধরা ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পাশাপাশি আরও একটি ‘মাইনর এনসিএল’ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় বোর্ড। পাশাপাশি যুব ক্রিকেটারদের ঝরেপড়া রুখতে চার দল নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতা আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে। একই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে নতুন করে ফিরিয়ে এনে তাতে প্রাণ ফেরানোর পরিকল্পনাও করছে বিসিবি।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটকে সঠিক পরিকল্পনার আওতায় আনতে পারলে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ঘরোয়া ক্রিকেটের চলতি বছরের পরিকল্পনা নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। এটি সংস্কার করে উন্নত পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন কাঠামো দাঁড় করানোর কথা ভাবছি।’ জাতীয় ক্রিকেট লিগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে এনসিএলকে ‘পিকনিক টুর্নামেন্ট’ বলেন। তবে এখানে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে আমরা একটি মাইনর এনসিএল চালু করতে চাই। ইংল্যান্ডে যেমন আছে। যাতে দ্বিতীয় সারির ক্রিকেটাররা নিয়মিত খেলার সুযোগ পান এবং নিজেদের মেলে ধরতে পারেন।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) নিয়ে বিসিবির খরচের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। আলমগীর বলেন, ‘বিসিএলে বিসিবির অনেক টাকা খরচ হয়। অথচ এখানে দলীয় প্রতিযোগিতার গুরুত্ব খুব বেশি দেখা যায় না। খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স করেই সন্তুষ্ট থাকে। আমরা এই প্রতিযোগিতাকে মালিকানাভিত্তিক কাঠামোয় নিয়ে যেতে চাই।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিসিএল শুরু হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে। কিন্তু বর্তমানে কেউ দল নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ বিষয়ে তার মন্তব্য, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দীর্ঘমেয়াদে সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা দলকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারে। আগে এক বছরের জন্য দল দেওয়া হতো, ফলে অনিশ্চয়তার কারণে কেউ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেনি। আমরা পাঁচ বছরের জন্য মালিকানা দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
যুব ক্রিকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলমগীর। তার মতে, ‘জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার ওপরে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না। তার আগেই ঝরে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিকেএসপির ক্রিকেটাররা টিকে থাকে। এ কারণে ঝরে পড়া রুখতে চার দল নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে যারা ভালো করবে, তাদের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।
আলমগীর আরও বলেন, ‘আমরা জাতীয় লিগে বিদেশি খেলোয়াড় আনার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমাদের ক্রিকেটাররাও যেন বিদেশের লিগে খেলতে পারে, সেজন্য ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এটি হলে আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় উপকার হবে।’