দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। চোটের কারণে চলমান বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে না পারা এই তারকা ফরোয়ার্ড গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। আর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ব্রাজিল ফুটবলের দুই কিংবদন্তি পেলে ও রিভালদোর পাশে নিজের নাম লিখিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ১০ নম্বর জার্সি পরে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তিনজনের দখলে। পেলে, রিভালদো ও নেইমার, তিনজনই ১০ নম্বর জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ১৪টি করে ম্যাচ খেলেছেন। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে পেলে এই কীর্তি গড়েছিলেন। রিভালদো খেলেছিলেন দুটি বিশ্বকাপ আসরে। আর নেইমার তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে স্পর্শ করলেন সেই সংখ্যা।
২০১৪ বিশ্বকাপে পাঁচটি, ২০১৮ বিশ্বকাপে পাঁচটি এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছিলেন নেইমার। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।
প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষবার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। ডান পায়ের কাফের চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে কোচ তাকে নামান ৭৫ মিনিটের সময়। যদিও গোল বা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম তুলতে পারেননি, তবু তার উপস্থিতিই ম্যাচটিকে বিশেষ করে তোলে।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি খালি ছিল। মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে কোনো খেলোয়াড়ই ঐতিহ্যবাহী এই নম্বরটি পরেননি। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর আগে ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ইনজুরির পর ব্রাজিল টানা তিন ম্যাচ ১০ নম্বর জার্সি ছাড়া খেলেছিল। প্রায় ৬৪ বছর পর আবারও এমন বিরল দৃশ্য দেখা গেল সেলেসাওদের শিবিরে।
এদিকে জাতীয় দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সিতে নেইমারের ম্যাচসংখ্যা এখন ৯৮। এই তালিকায় তার সামনে আছেন কেবল পেলে, যিনি ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন ১০৫টি ম্যাচ। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মাঠে নামতে পারলে নেইমার শততম ম্যাচের মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারেন।
ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়া নেইমার এখন নতুন করে আলোচনায়। সামনে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের অভিযানে তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।