গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় নবম কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শুক্রবার বিকেলে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনলাইন বৈঠকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে সৌদি কোম্পানি আরামকোর কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১১-১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য এই কার্গো কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার। একটি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকায় মোট দাম দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার।
এর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে দুই কার্গো করে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক খাতে সংকট অব্যাহত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। মাহমুদাবাদ, অনন্তপুর, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার, শ্যামলী, পিটিআই, রাজনগর, কলেজ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস থাকছে না। অনেক পরিবারকে গভীর রাত কিংবা ভোরে রান্না করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করছেন।
জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির হবিগঞ্জের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. আলী আক্কাছ বলেন, জাতীয়ভাবে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় চাপ কমে গেছে। তবে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে রদবদল।
পেট্রোবাংলার উচ্চপদে রদবদল ঘটেছে। পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন।
একই দিনে পেট্রোবাংলার নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি শাখা থেকে জারি করা পৃথক আদেশে পরিচালক (পিএসসি) পদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শোয়েবকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নিয়োগ বা পদায়ন হলে তিনি নিজ পদে ফিরে যাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।